কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভবিষ্যতে মানুষের চেয়েও স্মার্ট হবে বলে জানিয়েছেন ইলন মাস্ক। এর ফলে এআই মানবসভ্যতার অস্তিত্বের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন তিনি। সম্প্রতি জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স নামের এক পডকাস্টে ইলন মাস্ক বলেন, ‘আমি সব সময় মনে করি, এআই মানুষের চেয়ে অনেক বেশি স্মার্ট হবে। মানুষের অস্তিত্বের ঝুঁকি হতে পারে এআই। আর এই শঙ্কা সত্যি হতে চলেছে।’
এআইয়ের সক্ষমতা নিয়ে ইলন মাস্কের এখনো কিছুটা দ্বিধা রয়েছে। তাঁর মতে, এআইয়ের কারণে মানবসভ্যতা বিনাশের সম্ভাবনা ২০ শতাংশ হতে পারে। এবারই প্রথম নয়, গত বছর নরজেস ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিকোলাই ট্যানজেনের সঙ্গে আলোচনাকালে এআইয়ের কারণে মানবসভ্যতা ধ্বংসের সম্ভাবনা নিয়ে নিজের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন ইলন মাস্ক। সে সময় তিনি বলেন, ‘এআই আগামী দুই বছরে মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাবে। আশা করা যায় ২০২৯ বা ২০৩০ সালে এআই এমন একটি স্তরে পৌঁছাবে, যা সব মানুষের চেয়ে বেশি স্মার্ট হবে। এআইয়ের কারণে মানবসভ্যতার অস্তিত্ব ধ্বংসের সম্ভাবনা ১০ থেকে ২০ শতাংশ।’
ইলন মাস্কসহ প্রযুক্তি–দুনিয়ার অনেকেই এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করা প্রকাশ করেছেন। নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী জিওফ্রে হিন্টনের মতে, এআইয়ের কারণে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে মানবসভ্যতা বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশের মতো। অপর দিকে এআই নিরাপত্তা গবেষক রোমান ইয়াম্পলস্কির মতে, এআইয়ের কারণে মানবসভ্যতা ধ্বংসের সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ।
এআইয়ের কারণে মানবসভ্যতা ধ্বংসের সম্ভাবনা থাকলেও ইলন মাস্ক অলাভজনক ওপেন সোর্সনির্ভর এআই কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছিলেন ২০১৬ সালে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের অন্যতম সহ–প্রতিষ্ঠাতাও ইলন মাস্ক। বিভিন্ন কারণে চ্যাটজিপিটি ছেড়ে এলেও নিজের মালিকানাধীন এক্স এআইয়ের মাধ্যমে গ্রোক এআই চ্যাটবট তৈরি করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নে কাজ করছেন তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :